অধিকাংশ বাঙালি বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের লেখাপড়া শেখান আর্থিক প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু রামতারণ বাবু ছিলেন সম্পুর্ণ ব্যতিক্রম। স্কুলের পাঠ্য শেষ হবার পর ১৬ বছর বয়সে তার পুত্রটিকে পাঠিয়ে দিলেন কলকাতায় তার মামার বাড়ি। ভর্তি করালেন আর্ট স্কুলে।
সেখানে সবাইই ইউরোপীয় সন্তান। কেননা সেই একশ বছরেরও আগে বাঙালির শিল্পকলায় আগ্রহ এবং সচেতনতা খুবই সামান্য ছিল।
তা যাইহোক,
সেই পুত্রেরও আঁকার প্রতি ছিল ভীষণ আগ্রহ। কিন্তু শ্রেণীকক্ষে তার উপস্থিতি ছিল যথেষ্ট কম। এজন্য স্কুল শিক্ষক গিলার্ডি সাহেবের কোনোও অনুযোগ ছিলনা ছাত্রটির প্রতি। কারণ সারাদিন মাঠে ময়দানে বসে প্রকৃতির রূপ নিপুণ ভাবে তুলে ধরে তার ক্যানভাসে। মানুষের প্রতিকৃতি বা অবয়ব এমন প্রাণবন্ত ভাবে ফুটিয়ে তোলে যে গিলার্ডি সাহেবতো অবাক বনে যায়। ছাত্রাবস্থাতেই তাঁর ছবি সরকারি পুরস্কার লাভ করে।
স্কুল জীবন শেষ করে কর্ম জীবনে প্রবেশ করলেন রং তুলিকেই পাথেয় করে। সারাদিন রাত শুধু ছবি আঁকতেন বুঁদ হয়ে।
বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ফরমায়সি ছবি কখনো কারো আত্মীয়ের মৃতব্যাক্তির ছবি ইত্যাদি এঁকে উপার্জন চলত। কিন্তু নামডাক বা কদর তেমন ছিলনা। (আমাদের দুর্ভাগ্য এটাই যে সাহেবরা কদর না করলে এদেশের সাধারণ মানুষ সন্মান দেয়নি)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বহু ইউরোপীয় সৈন্য কলকাতায় জুটেছিল। তাদের নজরে এল তাঁর আঁকা ছবি। সময় পেলেই চলে আসত তাঁর আঁকা ছবি দেখতে। সমাদর ও করত তারা। যুদ্ধ থেমে যাবার পর অনেকেই স্মারক হিসেবে কিনে নিয়ে গেল তাদের দেশে। এইভাবে পৌঁছে গেল দেশের সীমানা পেরিয়ে ইংল্যান্ডে আমেরিকা।
এর ফল হল সুদূরপ্রসারী।
এদিকে তাঁর উপার্জনের পথ হয়েছে সুগম। জমিদার বাড়ির লোকজন ডেকে নিয়ে যায় ছবি আঁকাতে। একবার অবন ঠাকুরও তাঁকে নিয়ে গিয়ে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের ছবি আঁকিয়ে ছিলেন।
হঠাৎই একদিন তাঁর মনে হল, অর্থের লোভে বিকিয়ে যাচ্ছে তার শিল্প। ব্যস, তৎক্ষণাৎ ছেড়ে দিলেন বিপণন। বেড়িয়ে এলেন ইউরোপীয় ঘরানা থেকেও। তেল রং বাদ দিয়ে গিরিমাটি চুন খড়ি হরিয়াল সিঁদুর চিমনির ধোঁয়া প্রভৃতি সমস্ত এবং দেশজ উপাদান দিয়ে আঁকতে লাগলেন পটশিল্প। শুরু করলেন বাংলার নিজস্ব ঘরানা। ফলতঃ উপার্জনেও টান পড়ল।
একসময় প্রবল অভাবের সম্মুখীন হতে হল তাঁকে।
এদিকে ইউরোপের চিত্র রসিক এবং পন্ডিতরা তাঁর গুণের সন্ধান পেয়ে মুগ্ধ। ডাক পাঠাল বিদেশে আসার জন্য।
প্রচুর অর্থের হাতছানি অগ্রাহ্য করে সেই আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেন তিনি। তার কথায়_ আমার শিল্প,_ বাংলার শিল্পকে দেখতে হলে_ বুঝতে হলে বাংলাতেই এসে দেখে যাও। আমি কেন এখানকার শিল্পকে বয়ে নিয়ে যাব তোমাদের কাছে?
আজীবন এই জাত্যাভিমান বিকিয়ে দেয়নি কারো কাছে। সারা পৃথিবীজুড়ে যামিনী রায় নামটা শিল্পজগতের মানুষের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন একটি নাম। আজ তাঁর শিল্পের অনুসরণ গবেষণা আর কদর চলছে বিপুল ভাবে।
জীবদ্দশাতেও পদ্মভূষণ বহু সন্মানে সন্মানিত হয়েছেন তিনি।
আজকে তাঁর ৪৭তম প্রয়াণ দিবসে রইল আমার সশ্রদ্ধ স্মৃতিতর্পণ।
সেখানে সবাইই ইউরোপীয় সন্তান। কেননা সেই একশ বছরেরও আগে বাঙালির শিল্পকলায় আগ্রহ এবং সচেতনতা খুবই সামান্য ছিল।
তা যাইহোক,
সেই পুত্রেরও আঁকার প্রতি ছিল ভীষণ আগ্রহ। কিন্তু শ্রেণীকক্ষে তার উপস্থিতি ছিল যথেষ্ট কম। এজন্য স্কুল শিক্ষক গিলার্ডি সাহেবের কোনোও অনুযোগ ছিলনা ছাত্রটির প্রতি। কারণ সারাদিন মাঠে ময়দানে বসে প্রকৃতির রূপ নিপুণ ভাবে তুলে ধরে তার ক্যানভাসে। মানুষের প্রতিকৃতি বা অবয়ব এমন প্রাণবন্ত ভাবে ফুটিয়ে তোলে যে গিলার্ডি সাহেবতো অবাক বনে যায়। ছাত্রাবস্থাতেই তাঁর ছবি সরকারি পুরস্কার লাভ করে।
স্কুল জীবন শেষ করে কর্ম জীবনে প্রবেশ করলেন রং তুলিকেই পাথেয় করে। সারাদিন রাত শুধু ছবি আঁকতেন বুঁদ হয়ে।
বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ফরমায়সি ছবি কখনো কারো আত্মীয়ের মৃতব্যাক্তির ছবি ইত্যাদি এঁকে উপার্জন চলত। কিন্তু নামডাক বা কদর তেমন ছিলনা। (আমাদের দুর্ভাগ্য এটাই যে সাহেবরা কদর না করলে এদেশের সাধারণ মানুষ সন্মান দেয়নি)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বহু ইউরোপীয় সৈন্য কলকাতায় জুটেছিল। তাদের নজরে এল তাঁর আঁকা ছবি। সময় পেলেই চলে আসত তাঁর আঁকা ছবি দেখতে। সমাদর ও করত তারা। যুদ্ধ থেমে যাবার পর অনেকেই স্মারক হিসেবে কিনে নিয়ে গেল তাদের দেশে। এইভাবে পৌঁছে গেল দেশের সীমানা পেরিয়ে ইংল্যান্ডে আমেরিকা।
এর ফল হল সুদূরপ্রসারী।
এদিকে তাঁর উপার্জনের পথ হয়েছে সুগম। জমিদার বাড়ির লোকজন ডেকে নিয়ে যায় ছবি আঁকাতে। একবার অবন ঠাকুরও তাঁকে নিয়ে গিয়ে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের ছবি আঁকিয়ে ছিলেন।
হঠাৎই একদিন তাঁর মনে হল, অর্থের লোভে বিকিয়ে যাচ্ছে তার শিল্প। ব্যস, তৎক্ষণাৎ ছেড়ে দিলেন বিপণন। বেড়িয়ে এলেন ইউরোপীয় ঘরানা থেকেও। তেল রং বাদ দিয়ে গিরিমাটি চুন খড়ি হরিয়াল সিঁদুর চিমনির ধোঁয়া প্রভৃতি সমস্ত এবং দেশজ উপাদান দিয়ে আঁকতে লাগলেন পটশিল্প। শুরু করলেন বাংলার নিজস্ব ঘরানা। ফলতঃ উপার্জনেও টান পড়ল।
একসময় প্রবল অভাবের সম্মুখীন হতে হল তাঁকে।
এদিকে ইউরোপের চিত্র রসিক এবং পন্ডিতরা তাঁর গুণের সন্ধান পেয়ে মুগ্ধ। ডাক পাঠাল বিদেশে আসার জন্য।
প্রচুর অর্থের হাতছানি অগ্রাহ্য করে সেই আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেন তিনি। তার কথায়_ আমার শিল্প,_ বাংলার শিল্পকে দেখতে হলে_ বুঝতে হলে বাংলাতেই এসে দেখে যাও। আমি কেন এখানকার শিল্পকে বয়ে নিয়ে যাব তোমাদের কাছে?
আজীবন এই জাত্যাভিমান বিকিয়ে দেয়নি কারো কাছে। সারা পৃথিবীজুড়ে যামিনী রায় নামটা শিল্পজগতের মানুষের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন একটি নাম। আজ তাঁর শিল্পের অনুসরণ গবেষণা আর কদর চলছে বিপুল ভাবে।
জীবদ্দশাতেও পদ্মভূষণ বহু সন্মানে সন্মানিত হয়েছেন তিনি।
আজকে তাঁর ৪৭তম প্রয়াণ দিবসে রইল আমার সশ্রদ্ধ স্মৃতিতর্পণ।

Post a Comment